খতিয়ান সংশোধন আইন

খতিয়ান সংশোধন আইন

খতিয়ান এটা হলো জমির মালিকের মালিকানার স্বত্ব লিপির বিবারন যাহা সরকার কর্তিক  জরিপ / রেকর্ড অধিদপ্তর দিয়ে থাকে । আর যখন একটা জরিপ প্রচালিত হয় তখন সরাজমিনে যেয়ে জরিপ অধিদপ্তর একটা রেকর্ড তৈরী করেন আর এই রেকর্ড সম্পূর্ন্য হওয়ার পর সেটাকে মালিকানা দলিল হিসাবে ক্ষমতা প্রদান করেন ।  কিন্তু  অনেক সমায় একটা রেকর্ড চুড়ান্তভাবে প্রকাশ হওয়ার পরে সেখানে আমরা অনেক ধরনের ভূল দেখতে পায় । যে ভূল গুলো সংশোধন না করলে আমাদের মালিকানা থাকেনা । আর খতিয়ানের  এই ভূলের অনেক প্রকারভেদ আছে যাহা নিয়ে আমি অন্য একটা ব্লগে আলোচনা করবো আমি এখানে শুধু খতিয়ান সংশোধন নিয়ে কথা বলবো । জরিপ চলাকালীন সাময়ে ছোট বড় সকল ধরনের ভূল আমরা সেটেলমেন্ট অফিসার কর্তৃক ৩০  ধারা ও ৩১ ধারায় (আপত্তি দাখিল এবং আপিরের মাধ্যমে ) সংশোধন করতে পারি । – সেটেলমেন্ট অফিসার প্রজাস্বত্ব বিধিমাল ১৯৫৫ এর ৩০ ও  ৩১  বিধি  মোতাবেক এই গুলো  সংশোধন করতে পারেন ।

AC-LAND কর্তৃক র্চূড়ান্তভ প্রকাশিত খতিয়ানের ভূল সংশোধনের পদ্ধতি

করণিক ভূল (clerical mistake) :

জমির রেকর্ড চূড়ান্তভাবে প্রকাশ হয়ে গেলে কিছু কিছু ভূল the state acquisition  and tenancy 1950  – এর 143 ধারামতে এবং প্রজাস্বত্ব বিধিমাল ১৯৫৫ এর বিধি ২৩ – এর উপবিধি ৩ অনুযায়ী করণীক ভূল সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড অফিসার) সংশোধন করতে পারেন  –  সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড অফিসার) আবেদনের ভিত্তিতে  প্রজাস্বত্ব বিধিমাল ১৯৫৫ এর ২২ বিধি এর ১ উপবিধি অনুযায়ী খতিয়ানের দৃষ্ট  করণিক ভূল পর্যাচলোনা করে দুই নাং রেজিষ্ট্রারসহ সংশোধণ করতে পারেন  । তথা সাধারণ যে  ভূল গুলো যেমন: করণিক ভূল  – প্রিন্ট ভূল –ইত্যাদি

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের  মাধ্যমে খতিয়ান সংশোধন

২০০৪সালে the state acquisition  and tenancy Act ১৯৫১ সালের আইন সংশোধন করে ভূমি জরিপ ট্রাইবুনাল এবং ভূমি  জরিপ আপিল ট্রাইবুনালে গঠন করেন । অত্র আইন অনুযায়ী ভূমি জরিপ রেকর্ডে ভূলত্রুটি হলে জমির মালিকগন প্রতিকার পেতে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে মামলা করতে পারেন ।রাষ্ট্রিীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ১৪৫ (অ) ধারার ৬ উপধারা  অনুসারে চূড়ান্ত প্রকাশের এক বছরের মধ্যে ল্যান্ড ট্রাইব্যুনালে খতিয়ান সংশোধনের মামলা করতে করতে পারবেন । কিন্তু যদি এক বছরের মধ্যে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে না পারেন । তাহলে আইনের ১৪৫  এর (অ) ধারার ৭ উপধারা অনুসারে দুই বছরের মধ্যে (বিলম্বের কারণ প্রদর্শন পূর্বক) ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে মামলা করতে পারেন । এখানে আপনাকে যথাযত করণ উল্লেখ্য করতে হবে । ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল বিষয় টা যাচায় করার পর একটা রায় প্রদান করবেন । উক্ত রায় আপনার কাছে যদি যতযথা মনে না হয় তাহলে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে আপিল করতে পারবেন ।‍ আপিলের রায় আপনার কাছে যদি যতযথা মনে না হয়  তাহলে ৩০ দিনের মধ্যে (যদি বিলম্ব করে ফেলেন তাহলে যথাযতা কারণ উল্লেখ্য করলে আরো ৩০ দিন সমায় পাবেন আপিলের জন্য ) তথা মোট ৬০কর্ম দিবস । যদি আপিল ট্রাইব্যুণাল গঠন করা না হয় – তাহলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করা যাবে ।

দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে খতিয়ান সংশোধন

কিন্তু যদি এক / দুই বছর সমায় অতিক্রম হয়ে যায় তাহলে আমাদের ল্যান্ড ট্রাইবূনালের সমায় পার হয়ে যায় তখন আমাদের যেতে হয়ে এখতিয়ারধীন কোর্টে । এক্ষেত্রে আইনজীবীকে দেওয়ানি আদালতে একটি ঘোষণামূলক মামলা করতে হবে । উক্ত মামলার আরজির উপর ভিত্তি করে কোর্ট যাচায় বাচায় করবে এবং সকল তথ্য খতিয়ে দেখবেন । এবং সর্বশেষ  একটা রায় প্রদান করবেন এবং উক্ত রায় অনুযায়ী উক্ত রের্কড  সংশোধন করা করা হবে । যাহা আপনাকে নামজারির মাধ্যমে সংশোধন হবে তথা মামলার রায় মূলে নামজারি । কেননা কোনো রেজিষ্ট্রার / বালাম বইতে ঘষামাজা করা হয় না সেটা

error: Content is protected !!