দলিল সংশোধন

দলিল সংশোধন
দলিল সংশোধন

প্রথম পদ্ধতি – দলিল দাতার মাধ্যমে দলিল সংশোধন ।

দ্বিতীয় পদ্ধতি – আদালতের  মাধ্যমে দলিল সংশোধন ।

 

 দলিল দাতার মাধ্যমে সংশোধন:
দলিল দাতার মাধ্যমে দলিল সংশোধন করতে হলে উভায় পক্ষ মিলিত হয়ে – সাব-রেজিস্ট্রারে ঘোষনা মূলক দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে ভূলকৃত দলিল সংশোধন করা হয় । সুতারাং ঘোষনা মূলক দলিলের মাধ্যমে দাগ- খতিয়ান বা নামের ছোট-খাটো ভুল ধরা পড়লে এবং যে ভুল সংশোধন করলে দলিলের মূল কাঠামো বা স্বত্বেও কোন পরিবর্তন ঘটবে না সেরূপ ভুল সংশোধন করা হয় । সে জন্য সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার বরাবরে আবেদন করতে হবে।  সাব-রেজিস্ট্রার এই ধরনের ছোট-খাটো ভুল সংশোধন করতে পারেন।

যে সকল ভূলের কারণে দলিল সংশোধন করা যায়:

(১) প্রতারণার ফলে যদি দলিলে ভুল হয়।

(২) পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের জন্য যদি দলিল ভুলভাবে লিখিত হয়।

(৩) পক্ষগণের প্রকৃত মনোভাব  দলিলে ভুলভাবে লেখা হয়েছে।

(৪) পক্ষগণের প্রতারণা বা ভুল যদি আদালত দলিল কার্যকর করার  সময় নির্ণয় করতে পারেন – তাহলে তাহা সঙ্গে সঙ্গে সাব-রেজিষ্ট্রার সংশোধন করতে পারেন ।

(৫) কোন চুক্তিপত্র সম্পাদনের সমায় যদি পক্ষগণের ইচ্ছা পরস্পর বিরুদ্ধ হয়ে দাড়ায় – তাহলে চুক্তিপত্রটি তাৎক্ষনিক সংশোধন করতে পারবেন।

(৬) এ ছাড়াও অবস্থার উপর ভিত্তি করে দলিলের ভূল গুলো সাব-রেজিষ্ট্রার / আদালতের মাধ্যমে দলিল সংশোধন করা যায় ।

অবশ্যই মনে রাখতে হবে ৩ বছরের মধ্যে ভূল ধরা পড়লে -সংশোধন দলিল / সংশোধন মামলা করা যাবে উক্ত সমায় অতিক্রম করলে ঘোষনামূলক দলিল/ ঘোষনামূলক মামলা করতে হবে ।

যে সকল ব্যেক্তিবর্গ দলিল সংশোধনের মামলা করতে পারবে:

১/ দলিলের যে কোন পক্ষ।

২/ দলিলের যেকোন পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিগণ।

৩/ দলিলের যে কোন পক্ষের উত্তরাধিকারীগণ।

৪/  দলিলের যেকোন পক্ষের নিকট হতে হস্তান্তর গ্রহীতাগণ।

৫/ দলিলের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ।

 

আদালতের মাধ্যমে দলিল সংশোধনের উপায়:

জমি রেজিস্ট্রি করার পর অনেক সময় দেখা যায় দলিলে কোন জায়গায় হয়তো ভুল হয়েছে। দলিল রেজিস্ট্রির পর তাতে দাগ, খতিয়ান, মৌজা, চৌহদ্দি বা নামের বড় ধরনের কোন ভুল ৩ বছরের মধ্যে ধরা পড়লে তা খুব সহজেই সংশোধন করা যায়। এরূপ ভুল হওয়ার ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে দলিল সংশোধনের মামলা করতে হবে। ৩ বছর পর এরূপ মামলা তামাদির দ্বারা বারিত হয়ে যায়। তাই তখন আর সংশোধন মামলা করা যায় না, তবে ঘোষণামূলক মামলা করা যায়। এরূপ মামলার রায়ই হল সংশোধন দলিল।

রায়ের ১ কপি আদালত হতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার এর নিকট পাঠানো হলে সাব-রেজিস্ট্রার উক্ত রায়ের আলোকে সংশ্লিষ্ট ভলিউম সংশোধন করে নিবেন, ফলে নতুন করে কোন দলিল করার আর কোন প্রয়োজন নেই (সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৩১ ধারা) মোতাবেক ।

error: Content is protected !!